কানাডার বৃহত্তম শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে উগ্র ডানপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও বৈঠকে অংশ নিয়েছে বলে জানিয়েছে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। সংবাদমাধ্যমটির এক ভিজ্যুয়াল তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডাভিত্তিক ‘সেকেন্ড সন্স কানাডা’ নামের সংগঠনের সদস্যরা গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও সাউথ ক্যারোলিনায় গিয়ে বিভিন্ন ‘অ্যাকটিভ ক্লাব’-এর সদস্যদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেয়। তারা সাক্ষাৎ করে রবার্ট রান্ডোর সঙ্গেও, যিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত উগ্র ফ্যাসিবাদী ‘অ্যাকটিভ ক্লাব’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে ছড়ানো কিছু ছবিতে দেখা যায়, মুখ আড়াল করা কয়েকজন ব্যক্তি রবার্ট রান্ডোর সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। সিবিসি তাদের কয়েকজনকে ‘সেকেন্ড সন্স কানাডা’র সদস্য হিসেবে শনাক্ত করেছে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক ডায়ালগ’–এর জ্যেষ্ঠ গবেষণা ব্যবস্থাপক স্টিফেন রয় বলেন, ‘কানাডা থেকে সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অংশ নেয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি দেখায় যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের সমস্যা শুধু কানাডার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি ‘অ্যাকটিভ ক্লাব’ আগেও কানাডায় এসে হ্যামিলটনভিত্তিক উগ্র নব্য-নাৎসি সংগঠন ‘ন্যাশনালিস্ট-১৩’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ‘সেকেন্ড সন্স কানাডা’ তাদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ছবি প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ ভবিষ্যতে উগ্রবাদী নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
Mytv Online